28 C
Kolkata
28 C
Kolkata
মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 21, 2021

‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো দিলকো’-আজ তাঁর জন্মদিনে তাঁর সম্পর্কে রইল কিছু অজানা তথ্য

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁশলের আজ জন্মদিন।আশা ভোঁসলে ১৯৩৩ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর সঙ্গিল রাজ্যের (বর্তমান মহারাষ্ট্রে অবস্থিত) সঙ্গিল জেলার গৌড়ে এক সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা দীনানাথ মঙ্গেশকর ছিলেন মারাঠি ভাষী গোমন্থক মারাঠা সমাজের সদস্য এবং মারাঠি সঙ্গীত মঞ্চের একজন অভিনেতা ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী। ভোঁসলের যখন নয় বছর বয়স, তখন তাঁর পিতা মৃত্যুবরণ করেন। ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো দিলকো’ থেকে শুরু ‘দম মারো দম’-এর মতো গান দিয়ে দুনিয়াকে মাত করে রেখেছেন আশা ভোঁশলে। আজ তাঁর জন্মদিনে তাঁর সম্পর্কে রইল কিছু অজানা তথ্য-

তাঁর বড় বোন লতা মঙ্গেশকর তাঁদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য চলচ্চিত্রে গান গাওয়া ও অভিনয় শুরু করেন। তার গাওয়া প্রথম গান হল মারাঠি ভাষার মাঝা বল (১৯৪৩) চলচ্চিত্রে “চল চল নব বল”।

ও. পি. নয়্যারের সাথে আশার প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৯৫২ সালে “ছম ছম ছম” গানের রেকর্ডিঙে।নয়্যার প্রথম আশাকে মঙ্গু (১৯৫৪) চলচ্চিত্রের গানের জন্য ডাকেন এবং সিআইডি (১৯৫৬) চলচ্চিত্রের গানের মাধ্যমে তাঁকে সুযোগ দেন। যাই হোক, নয়া দৌড় (১৯৫৭) চলচ্চিত্রের গান দিয়ে এই যুগল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৯৫৯ সালের পর তাঁরা দুজনে প্রেম ও পেশাদারী সম্পর্কে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়েন।নয়্যার ও ভোঁসলে যুগল মনোমুগ্ধকর গানের মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে আছেন। এই যুগলের রেকর্ডকৃত কয়েকটি গান হল হাওড়া ব্রিজ (১৯৫৮) ছবিতে মধুবালার উপর চিত্রায়িত “আইয়ে মেহেরবান”, মেরে সনম (১৯৬৫) ছবিতে মুমতাজের উপর চিত্রায়িত “ইয়ে হ্যায় রেশমি জুলফোঁ কা আন্ধেরা”। কিসমত ছবির “আও হুজুর তুমকো” এবং মেরে সনম ছবির “যাইয়ে আপ কাহাঁ” গানগুলোও জনপ্রিয়তা লাভ করে। এছাড়া তাঁরা তুমসা নহীঁ দেখা (১৯৫৭), এক মুসাফির এক হাসিনা (১৯৬২) ও কাশ্মীর কী কলি (১৯৬৪) ছবির জন্য গান রেকর্ড করেন। নয়্যার আশা ভোঁসলে-মোহাম্মদ রফি যুগলকে তাঁর কয়েকটি জনপ্রিয় গানে ব্যবহার করেন, সেগুলো হল নয়া দৌড় ছবির “উড়ে জব জব জুলফেঁ তেরি”, এক মুসাফির এক হাসিনা ছবির “ম্যাঁয় প্যায়ার কা রাহি হুঁ” এবং কাশ্মীর কি কলি ছবির “দিওয়ানা হুয়া বাদল” ও “ইশারোঁ ইশারোঁ মেঁ”। নয়্যারের জন্য গাওয়া আশার শেষ গান ছিল প্রাণ যায়ে পার বচন না যায়ে (১৯৭৪) ছবির জন্য।

কোনও বিশেষ জ্যঁরের গানে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখেননি আশা ভোঁশলে।
কখনও মেলোডি, কখনও রোমান্টিক, কখনও পপস কখনও কাওয়ালি এমনকি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতেও তাঁর একইরকম দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়।

আশা ভোঁসলে তাঁর ছয় দশকেরও বেশি সময়ের মিউজিক্যাল কেরিয়ারে ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। বহুমুখী প্রতিভাধর এই সঙ্গীতশিল্পী ২০টিরও বেশি ভাষায় গান গেয়েছেন, যা এক অবিস্মরণীয় কীর্তি।

১৯৭৭ সাল পর্যন্ত আশা ভোঁসলে সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৭৭ সালের পর তিনি জানান যে তাঁর নাম যেন আর ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের জন্য গণ্য করা না হয়। ২০০১ সালে তিনি ‘ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার’ পান।

আশা ভোঁসলে বাংলা সিনেমার জন্য বহু ছবিতে নেপথ্য সঙ্গীত গেয়েছেন। এছাড়া তিনি বাংলা আধুনিক গান এবং রবীন্দ্রসঙ্গীতও গেয়েছেন অনেক।

অনেকেই জানেন না যে আশা ভোঁশলে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন। কিংবদন্তি মিউজিক কম্পোজার আর ডি বর্মণ তাঁর প্রথম স্বামী ছিলেন না। আশা তাঁর দ্বীগুণ বয়সী গণপতরাও ভোঁশলেকে বিয়ে করেছিলেন। গণপতিরাও ভোঁসলে ছিলেন তাঁর বোন লতা মঙ্গেশকারের সেক্রেটারি। তবে এই বিয়ে বেশি দিন স্থায়ী হয়নি এবং কয়েক বছর পর তিনি এবং তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। সেই সময়ে তিনি তৃতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

আশা ভোঁসলে ১৯৮০ সালে আর.ডি. বর্মণের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। রাহুলদেব তাঁর থেকে ছয় বছরের ছোট ছিলেন। দুজনে মিলে বলিউডকে একের পর এক স্মরণীয় গান উপহার দিয়েছেন।

গানের পাশাপাশি আশা কিন্তু অভিনয় দক্ষতা বাড়ানোরও চেষ্টা করেছিলেন। তিনি একটি মারাঠি সিনেমা ‘মাই’-এর হাত ধরে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন, যেখানে তিনি এক মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। পাশাপাশি এই ছবির জন্য প্লেব্যাকও করেছিলেন আশা।

তাঁর গায়িকা জীবনকে খতিয়ে দেখলে চারটি সিনেমাকে চিহ্নিত করা যায়। এগুলো তাঁর কেরিয়ারের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত। এ ছবিগুলো হলো: নয়া দৌড় (১৯৫৭), তিসরি মঞ্জিল (১৯৬৬), উমরাও জান (১৯৮১) এবং রঙ্গীলা (১৯৯৫)।

- Advertisement -spot_img

Latest news

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -spot_img

Related news

- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: