35 C
Kolkata
35 C
Kolkata
শুক্রবার, মে 14, 2021

মাঙ্গলিক কি? মাঙ্গলিক হওয়া কি দোষ? কিভাবে খণ্ডন করবেন জেনে নিন ।

মাঙ্গলিক শব্দের অর্থ হল শুভ অনুষ্ঠান । ঘরে কোন মঙ্গল সুচক অনুষ্ঠান কে মাঙ্গলিক বলা হয় । অনেক সময়েই আমরা একটা কথা শুনে এসেছি, সেটা হল কেউ কেউ নাকি মাঙ্গলিক। অর্থাৎ তাঁর নাকি জন্ম ছকে মাঙ্গলিক দোষ আছে। কথা টা মাঙ্গলিক না, মঙ্গল জাত দোষ তাই মাংগলিক বা ভৌম দোষ ।

মূলত নাকি বৈবাহিক জীবনের সঙ্গে এই মাংগলিক বা ভৌম দোষ যোগের সম্পর্ক বেশ বেশি। ভৌম দোষ থাকলে বিবাহিত জীবন ভালো হয় না, শরীর খারাপ হয়, আরও কত কি! কিন্তু আমাদের ভালো করে জানা উচিৎ যে আসলে কাকে বলে এই ভৌম দোষ আর তা থাকলে ঠিক কী করণীয়।

মাংগলিক বা ভৌম দোষ কি?

এই কথাটি মূলত জ্যোতিষ শাস্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে আমাদের জীবনের ভাল-মন্দ নির্ধারিত হয় গ্রহদের দ্বারা। আর এই মাংগলিক দোষের নির্ধারণ কর্তা হলেন মঙ্গল গ্রহ।

আমাদের জন্মছককে ১২টি ভাগে ভাগ করে এক একটি ভাগকে এক একটি কারণের জন্য ঠিক করা হয়েছে। যেমন কোনও ঘর ভাগ্য, কোনও ঘর অর্থ, কোনও ঘর টাকা এই সব। এই ঘরে নির্দিষ্ট গ্রহের প্রভাবেই জাতক বা জাতিকার ভাগ্য ঠিক হয়।

জন্মকুণ্ডলীতে লগ্ন থেকে প্রথম, চতুর্থ, সপ্তম, অষ্টম আর দ্বাদশে মঙ্গলের প্রভাবে অর্থাৎ এই কয়টি ঘরে যদি মঙ্গলের আবস্থান হয় তাহলে মাংগলিক বা ভৌম দোষ  হয়। এর সঙ্গে আবার খারাপ গ্রহ যেমন কেতু যুক্ত হলে খারাপ ফলের পরিমাণ বেড়ে যায়। আর শুভ গ্রহ থাকলে সেই শুভত্ব খর্ব হয়।

কোন ভাব থেকে কী সমস্যা হয়?

প্রথম ভাবে মঙ্গলের দৃষ্টি থাকলে জাতকের স্বাস্থ্য ভালো যায় না, স্বভাবে উগ্রতা আসে। চতুর্থ ভাবে মঙ্গলের প্রভাবে মায়ের শরীর খারাপ, বাড়িতে অসুস্থতা লেগেই থাকে। সপ্তমে মঙ্গলের প্রভাবে বিবাহিত জীবন সুখের হয় না, অশান্তি লেগেই থাকে। ব্যবসায় উন্নতি হয় না আর। অষ্টমে মঙ্গলের প্রভাবে আইনি ঝামেলা বৃদ্ধি পায়। আর দ্বাদশে মঙ্গল থাকলে জাতক বা জাতিকার মানসিক দুশ্চিন্তা, টেনশন বেড়ে যায়।

কী করলে এই দোষ খণ্ডন হয়?

যদি আপনার মাঙ্গলিক দোষ থাকে তাহলে নীচের এই কাজগুলো আপনি করতে পারেন। যেমন,

১. হনুমান পুজো

প্রতি মঙ্গলবার হনুমানজীর পুজো করুন। এর সঙ্গে হনুমান চলিশা পাঠ করুন। হনুমান মন্দিরে গিয়ে মেটে সিঁদুর দিয়ে পুজো করুন। সঙ্গে জ্বালুন ঘি এর প্রদীপ। এতে আপনার ভৌম দোষের প্রভাব অনেকটা কমবে বলে শাস্ত্রে বলে।

২. পশুদের সেবা

প্রতি মঙ্গলবার পশুদের খাওয়ান। পারলে হনুমানকে খাওয়ান। বিড়াল, কুকুর এদেরও খাওয়াতে পারেন। তাহলেও এই দোষ কেটে যায়। কুকুরকে ভাত না দিয়ে আটা দিয়ে রুটি বানিয়ে খাওয়ান।

৩. উভয়েই মাংগলিক

যদি দু জন মাংগলিকের মধ্যে বিবাহ হয় তাহলে এই দোষ কেটে যায়। একে আপনি বিষে বিষে বিষক্ষয় বলতে পারেন। অর্থাৎ দুই মাংগলিকের বিবাহ হলে দু জনের মাংগলিক দোষ খণ্ডিত হয়ে যায় দু জনের প্রভাবে। তবে দুজনেরই জন্মছক যাচাই করে নেওয়া উচিৎ নচেৎ দাম্পাত্য কলহ থেকে বিচ্ছেদে পরিনত হতে পারে ।

৪. প্রতীকী বিবাহ

এই ভৌম দোষের প্রতিকার হিসেবে কুম্ভবিবাহ বলে একটি কথা প্রচলিত আছে। এটি আর কিছুই নয়। মাঙ্গলিক জাতক বা জাতিকাকে একটি কলা বা পিপুল গাছের সঙ্গে আগে বিয়ে দেওয়া হয়। এতেও দোষ অনেকটা কমে।

৫. খাদ্যাভাসে নজর

প্রতি মঙ্গলবার উপোস করে আর অড়হর ডাল খেলে এই দোষ কেটে যায়। নিরামিষ খাবেন আর চেষ্টা করবেন মাছ-মাংস না খাওয়ার।

৬. মন্ত্র পাঠ

মঙ্গলবার নবগ্রহ মন্ত্র উচ্চারণ করুন। তাঁর সঙ্গে ১০৮ গায়ত্রী মন্ত্র জপ করুন। এতে কিন্তু খুব ভালো কাজ দেয়। পুরোহিতের থেকে আপনি অনায়াসেই জেনে নিতে পারেন।

এই সবই জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে আপনার ভৌম দোষ কাটানোর জন্য খুবই দরকারি। কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই মনে রাখবেন। মাংগলিক বা ভৌম দোষ থাকা বা না থাকা সম্পূর্ণই বিশ্বাসের উপর। বিজ্ঞান বা যুক্তি একে স্বীকার করে না। অনেক দিন ধরেই এই বিশ্বাস আমাদের অনেকের মধ্যেই চলে আসছে। আমরা শুধু জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী যা বলা হয়েছে তা আপনাদের জানালাম। বাকী মানা বা না মানার সিদ্ধান্ত একদমই আপনার উপর।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_imgspot_img
- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img

Latest news

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -
- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img

Related news

- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.