28 C
Kolkata
28 C
Kolkata
বুধবার, জুলাই 28, 2021

ওঁর নামেই সুর। উনি পঞ্চম , তার এই নাম কে রাখেন ?

ওঁর নামেই সুর। উনি পঞ্চম। রাহুল দেব বর্মন। জীবনের প্রথম বড় সাফল্য আসে ‘তিসরি মঞ্জিল’ মুক্তি পাওয়ার পর থেকে গানটি ছিল ‘ও মেরে সোনা রে’, ব্যাস তারপর থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত রাহুল মোট ২৯২ হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীত এবং ৩১ টি বাংলা চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেন। তাঁর প্রচুর বাংলা গানের অ্যালবাম রয়েছে যেগুলো তিনি পুজোর সময় বের করতেন এবং গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার গীতিকার হিসেবে থাকতেন।

রাহুলের জন্ম কোলকাতাতে ২৭ জুন ১৯৩৯ সালে। তাঁর বাবা বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মন এবং মা ছিলেন গীতিকার মীরা দাশগুপ্ত। প্রাথমিকভাবে রাহুলের ডাক নাম রাখা হয় টুবলু। অনেকের মতে অভিনেতা অশোক কুমার রাহুলের ডাক নাম রাখেন পঞ্চম।

রাহুল তার প্রাথমিক শিক্ষা বঙ্গে গ্রহণ করেন। রাহুল মাত্র নয় বছর বয়সে ‘এ মেরে টোপি পালাট কে আ’ গানের সুর করেছিলেন। এরপর ‘ফান্টুস’ ছবিতে ১৯৫৫ সালে একটি গান ব্যবহার করেছিলেন যেটা তাঁর বাবা নিজেই গেয়েছিলেন উনি সুর দিয়েছিলেন, গানটি ছিল ‘সার যো তেরা চকরায়.. মালিশ তেল মালিশ’।সঙ্গীতকার সলিল চৌধুরীর কাছে রাহুল সঙ্গীতের ব্যাপারে অনেক কিছু শিখেছিলেন।রাহুল তার বাবা শচীনের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

গান কি গান হিসেবে দেখার থেকেও অনেক বেশি মিউজিক হিসেবে দেখতেন। কাঁচের গ্লাসে চামচের তালেই নাকি ‘চুরালিয়া হে তুমনে জো দিল কো’র মিউজিক তৈরি করেছিলেন। গানের শুরু প্রিলিউড, গানের মাঝে ব্যবহার করা ইন্টারলিউডকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিলেন রাহুল। কখনো জলভর্তি বোতল বা কখনো বৃষ্টি পড়ে টুপটাপ শব্দ দিয়ে মিউজিক তৈরি করতেন শচীন কর্তার পুত্র। ‘পড়োশন’ ছবিতে ‘মেরে সামনে ওয়ালি খিরকি’গানটিতে চিরুনি ঘষার আওয়াজে লাতিন যন্ত্র ব্যবহার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। মিউজিক গ্রাফট মডিউলেশনকে ট্রেডমার্ক বানিয়ে ফেললেন পঞ্চম। ‘শোলে’ ছবির ‘মেহেবুবা’ থেকে শুরু করে ‘পুকার’ ছবির ‘সামান্দার মে’ হল তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। ১৯৭১ সালে ‘অমর প্রেম’ ছবিতে ‘রয়না বিত জায়ে’গানটিতে গিটার আর সন্তুরকে এক করে মিউজিক কম্পোজ করেছিলেন, রাহুল দেব বর্মন ই প্রথম যেমন দুঃসাধ্য কাজটি করেছিলেন।

রাহুলের প্রথম স্ত্রী ছিলেন রিটা। রিটা প্যাটেল এর সঙ্গে তিনি ভালোবাসা করেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ১৯৬৬ সালে। কিন্তু ১৯৭১-এ রাহুলের সাথে রিটার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। সেই সময়ে রাহুল অনেকটা মুষড়ে পড়েছিলেন। রাহুল ‘মুসাফির হু ইয়ারো’গানটির সুর রিটার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর করেন। কিশোর কুমার কে দিয়ে গাওয়া গানটি দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছিল। ১৯৮০ সালে গায়িকা আশা ভোঁসলে কে বিয়ে করেন।
তাঁর শেষ কাজ ‘1942 লাভ স্টোরি’, ‘কুছ না কাহো’ আর ‘রিমঝিম রিমঝিম’ এর মত সুরের রেশ। ৪ জানুয়ারি ১৯৯৪ -এ মুম্বাইয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অনেক যন্ত্রণা নিয়েই। কিন্তু পঞ্চম এর মত শিল্পীদের তো মৃত্যু হয় না।

- Advertisement -spot_img

Latest news

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -spot_img

Related news

- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: