27 C
Kolkata
27 C
Kolkata
বুধবার, সেপ্টেম্বর 22, 2021

সবুজদ্বীপ পিকনিক স্পট। ভাবছেন কোথায় ? কিভাবে যাবেন ?

চড়ুইভাতি, বনভোজন বা পিকনিক যে নামেই ডাকা হোক না কেন শীতকাল এলেই শুরু হয়ে যায় তার তোড়জোড়। কোভিড এর জেরে মানুষ চার দেওয়ালের মধ্যে থাকতে থাকতে ক্লান্ত। থার্ড ওয়েভ এর জন্য প্রস্তুতি মানুষ নিয়ে ফেলেছেন, তাই সবদিক সামলে মানুষ কাজকর্ম, বেড়াতে যাওয়া সবকিছুই করছেন। আমার প্রিয় বাঙালি পিকনিক যাবে না এমনটা হতে পারে না। উত্তুরে হাওয়া সফল হয়ে উঠলে মনটা কেমন পিকনিক পিকনিক করে। শীত আসা মানেই লেটস গো টু পিকনিক। শীতে নরম রোদ গায়ে মেখে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার উল্লাস। তাই আপনাদের জন্য থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের টপ ১০ পিকনিক স্পটের সন্ধান।
মাইথন-পিকনিকের পাশাপাশি ২-১ দিনের ছুটি নিয়ে দামোদরের তীরে মাইথনে ঘুরে আসতে পারেন। নানারকম গাছপালায় ঘেরা এক অপূর্ব জায়গার। আসানসোল বা বরাকর থেকে মাত্র 8 কিলোমিটার দূরে রয়েছে মাইথন।

পুষ্পবন- পিকনিক করার জন্য উপযুক্ত জায়গা ডায়মন্ড হারবার। ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ধার দিয়েই বয়ে গিয়েছে কুলহীন হুগলি নদী বা গঙ্গা। নদীর ধার বরাবর সুন্দর বাঁকানো রাস্তা, বসার জায়গা, একটু দুরেই পর্তুগীজদের তৈরি কেল্লার ধ্বংসাবশেষ। রয়েছে লাইট হাউস। ভোজনরসিকরা চাইলে চলে যেতে পারেন নগেন্দ্র বাজার মাছের খোঁজে। রয়েছে বিনোদন পার্ক ও।

বৈঁচি বাংলো বাগান-হাওড়া বর্ধমান মেন লাইনে বৈঁচির কাছেই পাঁচ বিঘা জমির উপর রয়েছে সুন্দর একটি বাগান বাড়ি। ভিতরে চিলড্রেন’স পার্ক সাজানো বাগান এবং প্রচুর গাছ গাছালি আছে কলকাতা থেকে ট্রেনে এলে হাওড়া বর্ধমান মেন লোকাল ধরতে হবে।

বেথুয়াডহরি-জেলার অন্যতম পিকনিক স্পট বেথুয়া ডহরি অভয়ারণ্য। এই পিকনিক স্পটের আকর্ষণ অভয়ারণ্যে হরিণ দর্শন। অভয়ারণ্যে হরিণেরা দলে দলে ঘুরে বেড়ায়। এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, অভয়ারণ্যের ভিতরে বনদপ্তরের কটেজ রয়েছে।

বিশ্রাম বাগান বাড়ি-জায়গার নাম টাকি। দূরত্ব মাত্র ৭৫ কিলোমিটার। শিয়ালদহ থেকে হাসনাবাদ লোকালে চাপলে সময় লাগবে মাত্র ২ ঘন্টা ১৫ মিনিট। টাকি রোড স্টেশন থেকে সৈয়দপুর গ্রাম টোটো তে কয়েক মিনিটের রাস্তা। সেখানেই আছে বিশ্রাম বাগান বাড়ি, বাগানবাড়ি থেকে ২ মিনিট হাঁটলেই ইছামতি নদী। নদীর অপর পাড়ে বাংলাদেশ। সকালে বা বিকেলে হাঁটতে ইচ্ছে হলে চলে যান গোলপাতার জঙ্গলে বা কুলেশ্বরীর কালী মন্দিরে। শহর থেকে হারিয়ে গিয়ে প্রকৃতির গন্ধ,বর্ণ গায়ে মেখে নিজের মধ্যে ফিরে পাবেন হারিয়ে যাওয়া ‘আমার আমি’ কে।

মেঠো গাঁ- নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সবুজ মাঠ ,মাটির রাস্তা, পুকুর। মধ্যমগ্রাম থেকে বেশ খানিকটা এইগুলি হাজির হওয়া যায় গ্রামে। তবে পিকনিক স্পট হিসেবে জায়গাটি এখনো জনপ্রিয় হয়নি। দুদিকে সবুজ ক্ষেত চোখের শান্তি সঙ্গে সঙ্গে পেটের খিদে মেটাবে। ক্ষেতের টাটকা সবজি দিয়ে হতে পারে আপনার সেদিনের দুপুরের রান্না।

চান্দুর-বন ছাড়া কি আর বনভোজন জমে?? কাজেই জল জঙ্গল আর কষা মাংস পিকনিকের অন্যতম অঙ্গ। হুগলির শেষপ্রান্তে আরামবাগ থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চান্দুর। শাল ,সেগুন ,সোনাঝুরির জঙ্গলের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে দ্বারকেশ্বর নদী। পাখির কলকাকলি সঙ্গে জমবে জমাটি আড্ডা জঙ্গলে মিলবে পিকনিকের মজা।

মানকুর-কোথাও পিকনিক করার জায়গা পাচ্ছেন না তো?? নো চিন্তা। মানকুর আছে তো। হাওড়া থেকে সাউথের ট্রেন ধরে নামুন বাগনান। বাগনান থেকে অটো ধরে সোজা রুপনারায়ন নদীর তীরে গিয়ে নিজের পছন্দ মত জায়গা খুঁজে নিলেই হল। আর হ্যাঁ এখানে গেলে ল্যাংচা অবশ্যই খাবেন।

রায়চক-ভাগীরথী হুগলি নদীর গা ঘেঁষে রায়চক এর দূরত্ব কলকাতা থেকে ৫০ কিলোমিটার। যেতে সময় লাগবে আড়াই ঘন্টা। ব্যবস্থা আছে ভোটিংয়ের চট করে একদিনের ছুটি কাটানো বনভোজনের জন্য একেবারে আদর্শ জায়গা রায়চক।

সবুজদ্বীপ-ব্যান্ডেল কাটোয়া রেল শাখার সোমরাবাজার স্টেশনে নেমে ভ্যান ধরে চলে আসুন ফেরিঘাট। এই ফেরিঘাট থেকে সবুজদীপ পৌঁছানোর জন্য মোটর চালিত নৌকা পাওয়া যায়। বেহুলা হুগলি নদীর সঙ্গম এই সুবিশাল একটি করে গড়ে উঠেছে সবুজদ্বীপ পিকনিক স্পট।

- Advertisement -spot_img

Latest news

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -spot_img

Related news

- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: